শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

নান্টু স্যারের একটু প্যালিনড্রোম(palindrome) .........।


সোজা দরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দিকে হাটছিকোন তাড়া নেই,  তবে মনের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস তাই সোজা নান্টু স্যারের উদ্দেশ্যে হাঁটাঅনেক দিন নান্টু স্যারের কাছে যাওয়া হইনি , তাও বেশ কইয়েকদিন ধরে  স্যারের মোবাইল বন্ধ। মানুষেরর অনেক সময় অনেক অপ্রয়োজন কাজ প্রয়োজনের চাইতে বেশি পরিমাণ চুলকায়। ঠিক  নান্টু স্যারের কাছে বিজ্ঞান গিলা টা আমার অতি প্রয়োজন না,  তবে না গিলেও বেশি দিন ঠিকতে  পারিনা । তার দেওয়া বিজ্ঞান গিলার মত শান্তি আমি অন্য কোন জায়গায় পাইনি।  যাইহোক  প্রোগ্রামিং করার সময় প্যালিনড্রোম(palindrome) জিনিসটা ভালোই অভিশাপ দিচ্ছে, বলা যায় অভিশাপ মুক্ত হওয়ার জন্য আজকে স্যারের কাছে আসা।

আমি একা স্যারের রুমে বসে আছি । একজন পিওন এসে বলল  স্যার এখন ক্লাস নিচ্ছেন ঘন্টা আধেক অপেক্ষা করতে হবে।  না মানার কোন অপশন নেই তাই চুপচাপ বসে আছি। মানুষের একা সময় কাটানোর সুন্দর একটি উপায় হল তার আশেপাশে পরিবেশ নিয়ে বিশ্লেষণ করা । আমি এখন  তাই করছি।  বুঝা যায় স্যার অনেক  গোছাল খুব  সুন্দর করে রুম সাজিয়েছেন । আইনিস্টাইন, ইউক্লিড, নিউটন কিংবা আর্কিমিডিসের মত ব্যাক্তিদের ছবি শোভা পাই। আমি আইনিস্টাইনের ছবির দিকে তাকিয়ে আছি উনিও আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। খুব কথা বলতে ইচ্ছে করছে আইনিস্টাইনের সাথে । বাস্তবে তো সম্ভব না তাই ভাবলাম ছবির সাথে কথা বলি কিন্তু সমস্যা বড় মহৎ, পাশে পিওনটি বসে আছে ।  নিশ্চিত পাগল টাগল ভাবতে দ্বিধা করবেনা। ইচ্ছে করছে একটি ঘুষি দিয়ে তাকে বের করে দিই তোর এখানে কাজ কি ? বের হও

-শুভ , কেমন আছে?

পিছনে থেকে নান্টু স্যারের আগমন।

- স্যার, আমি ভালো আছি।  আপনার শরীল ক্যামন?

-শরীলের কথা আর বলিওনা এই আছি এই নাই। তো হঠাৎ  কি মনে করে?

-স্যার বিজ্ঞান খাওয়া হইনি অনেক দিন ধরে। অনেক খিদা আছে  আজ প্যালিনড্রোম(palindrome) খাব

আমার কথা শুনে স্যার হাসি দিয়ে বললেন।
-এসে ভালো করছ। অনেক দিন ধরে একা , সময় টা খুব অশুভ যাচ্ছে

স্যার একটা পান খাওয়া শেষ না করতেই সাথে  আরেকটি পান  গালে ঢুকাই দিলেন । আর আমার দিকে মিটমিট করে হাসছেন। মাঝে মাঝে স্যারের পান খাওনি দেখে  খুব ইচ্ছে হই পান খাওয়ার তৃপ্তি টা পেতে।
-         শুভ , চক টা নিয়ে  ব্লেক বোর্ডে লিখ MADAM”

আমি স্যারের আদেশ পালন করলাম;

-গুড, এখন যে শব্দ টি লেখেছ তার উলাটা করে (অর্থাৎ শেষ শব্দ প্রথমে এবং প্রথম শব্দ শেষে) শব্দটি আবার লিখ, এখন দেখে শব্দ দুটির মাঝে কোন পার্থক্য আছে?

-“হুম তাইতো , স্যার দুটি শব্দ একই

-“এটাই হল প্যালিনড্রোম(palindrome)”

এই বলে স্যার আরেকটি পান মুখে দিলেন রীতিমত স্যারের পান খাওয়াটা সমানুপাতিক হারে  বেড়ে চলছে ।

-বুঝলে শুভ , শব্দ বা বাক্য নিয়ে যত ধরনের মজার মজার ব্যাপার হতে পারে তার মধ্যে প্যালিনড্রোম(palindrome) অন্যতম এটি শুদু বিজ্ঞান কিংবা গণিত না এটি একধরণের মজার খেলা যেমন টা এই মজার খেলাটা  তরুন প্রোগ্রামাররা অনেক বেশি  খেলে। সোজা কথায় বলতে গেলে কোনো একটা শব্দ বা বাক্যকে উভয়দিক থেকে পড়লে যদি একই জিনিস পাওয়া যায় তাহলেই সেটা একটা প্যালিনড্রোম, যেমন- 'MADAM' বা উপরের বাক্যটি। সাউথ-ওয়েস্টার্ন আর্কিলজিস্ট সাইপ্রাস (Cyprus) প্রথম ১৫০০ বছর পূর্বের একটি খোদায় করা কবজ পেয়েছিলেন যেখানে ৫৯ শব্দের কিছু একটি লিখা ছিল। যা পিছন কিংবা সামনে থেকে পড়লে একই জিনিস পাওয়া যায়। তখন থেকে পৃথিবী নতুন করে প্যালিনড্রোম(palindrome) এর সাথে পরিচিত হচ্ছে। তবে এর উৎপক্তি নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই

এই বলে স্যার তার পুরানো আলমারি থেকে আমাকে সেই খোদায় করা কবজ টির একটি কপি  দেখালেন।

  ΑΕW
 ΒΑΦΡΕΝΕΜ
 ΟΥΝΟΘΙΛΑΡΙ
 ΚΝΙΦΙΑΕΥΕ
 ΑΙΦΙΝΚΙΡΑΛ
 ΙΘΟΝΥΟΜΕ
 ΝΕΡΦΑΒW
 ΕΑ


- ইংরেজিতে খুব প্রচলিত একটি প্যালিনড্রোম হল Able was I ere I saw Elba (যদিও বলা হয়ে থাকে সম্রাট নাপোলেওনের মুখের কথা, তবুও এ নিয়ে বিবাদ আছে)ইংরেজিতে প্যালিনড্রোমের অভাব নেই; অভাব নেই ইউরোপের অনেক ভাষাতেইফিনিশ ভাষাকে তো প্যালিনড্রোমের ভাষাই বলা হয়
ইংরেজিতে আরো কয়েকটি বেশ প্রচলিত প্যালিনড্রোম(palindrome) হল
Aibohphobia,
 Malayalam,
 Ya, Decaf. FACE DAY!!,
 Won’t I Panic In A Pit Now?,
 Too Far, Edna. We Wander Afoot,
 Test Tube Butt Set,
 Ten Animals I Slam In A Net,
বাংলায় প্যালিনড্রোম বেশ বিরল ছোটবেলার তোমাদের  প্রায় সবার জানা রমাকান্ত কামারছাড়া আর প্রায় তেমন নেইতিন অক্ষরের কয়েকটি শব্দ পাওয়া যায়: মধ্যম, নতুন, নবীন, সমাস, মলম, জমজ, দরদ ইত্যাদি তবে সংস্কৃতেও চতুর্দশ শতকের দৈবজ্ঞ সূর্য পণ্ডিতের লেখা ৪০ শ্লোকের রামকৃষ্ণ বিলোম কাব্যম নামের একটি কবিতা পাওয়া যায় যার প্রতিটি শ্লোক একেকটি প্যালিনড্রোম
 উদাহরণ: তামসীত্যসতি সত্যসীমতা মায়য়াক্ষমসমক্ষয়ায়মামায়য়াক্ষমসমক্ষয়ায়মা তামসীত্যসতি সত্যসীমতা॥ (৩ নং শ্লোক)যাই হোক একটু বড়: নবজীবনকয়েকটি শব্দবন্ধও পাওয়া যায়: থাক রবি কবির কথা,’ ‘বিরহে রাধা নয়ন ধারা হে রবিইত্যাদি; ধারণা করা হয় এ দু'টি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  অবদানআরও দুয়েকটি পাওয়া গেছে, যদিও উৎস জানা নেই: কীর্তন মঞ্চ পরে পঞ্চম নর্তকীএবং মার কথা থাক, রমা

-স্যার , প্যালিনড্রোম(palindrome) এর বাংলা কোন প্রতিশব্দ নেই?
আমার প্রশ্নে স্যার একটু হেসে উঠলেম ।

-না, বাংলা ডিকশোনারিতে প্যালিনড্রোম(palindrome) বলতে কোন শব্দ নেই । তবে আমি মনে করে বাংলা তত্ত্ব ভান্ডারে এই শব্দের প্রতিশব্দ দেওয়া দরকার। আর আমি হলে প্যালিনড্রোম(palindrome) শব্দের অর্থ দিতাম দিগনিরপেক্ষক, অগ্রপশ্চাতসমর্থক, দিকসমান, উভমুখ, সমদিকশ্রুত

-জি স্যার , প্রতিশব্দ টা  দেওয়া জরুরী

-শুভ এখন তোমার প্যালিনড্রোম(palindrome) প্রোগ্রাম রেডি তো ?????


যারা প্যালিনড্রোম(palindrome) প্রোগ্রাম টি সি++ এ করতে চান তারা নিচের লিংকে ঢু দিতে পারেন ...............



 আহমেদ শুভ৯৬৯

 ahmed shuvo969

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৬

নান্টু স্যার কিন্তু সোনালী অনুপাত(golden ratio) নিয়ে ব্যস্ত

-" শুভ তোমাকে একটি প্রশ্ন করি!"

- "জি স্যার,করুন"

-"তুমি কি জানো তোমার চেহেরা সুন্দর কেন? শুধু তোমার না পৃথিবীর যত চেহেরা সুন্দর ওয়ালা মানুষ আছে তাদের চেহেরা সুন্দর কেন?"

-" হ্যাঁ স্যার ,  আসলে যার যার চেহেরা ভালো লাগে  তার জন্য তার চেহেরা সুন্দর। আপনার হইতো আমার চেহেরা ভালো লাগে তাই আপনার জন্য আমি সুন্দর।"

-" কিন্তু কি এমন কারণ যে একজনের মানুষের চেহেরা অন্য জনের সাথে মিলেনা?"

-আমি চুপচাপ

- "বিজ্ঞানীদের মতে, সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে চোখ, মুখ ও কানের মাঝামাঝি অংশের ডায়মেনশন এর মধ্যে।
অতঃপর তারা মাপজোক করে বললেন কারণ সোনালী অনুপাত! সোনালী অনুপাত(Golden Ratio) কি জিনিস জানো???"

আমি স্যারকে কোন সাঁয় দিলাম না, শুধু চুপচাপ স্যারের কথায় ডুবে আছি।  কিছু মানুষের আছে যাদের কথা শুনার মধ্যে আনন্দ আছে, তৃপ্তি আছে, মজা আছে।নান্টু স্যার তাদের মধ্য অন্যতম। উনার কথা আমি যত শুনি তৃপ্তি সহায়ক আনন্দ টা সমানুপাতিক হারে  বাড়তে থাকে। জানিনা এটাকে বিজ্ঞান কি বলে??

- "শুভ, তুমি কি জানো প্রকৃতি সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক কি ? "

-" আসলে স্যার, প্রকৃতিরর মাঝে আমরা বিজ্ঞান কে  বিশেষ করে গণিত কে খুজে পাই,  আর বিজ্ঞানের অন্যতম উৎস হল প্রকৃতি "

-" তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের গাঢ় রহস্য হল গণিত তথা সোনালী অনুপাত(Golden Ratio) প্রকৃতির সৌন্দর্যের সব কিছু এর মধ্যে নিহিত। সোনালী অনুপাত বা Golden ratio নিয়ে গণিতপ্রেমীদের মাতামাতির শেষ নেই। আর মাতামাতি হবেই বা না কেন , এই দুষ্টু (অমূলদ ) সংখ্যার এত মাহাত্ম্য কিসে্র? আসলে এই সংখ্যাতেই লুকিয়ে আছে সৃষ্টিজগতের অনেক রহস্যের সমাধান , একটু গভীর ভাবে দৃষ্টি দিলেই আমরা একে খুঁজে পাব আমাদের দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে , গোটা জীব জগতে , পদার্থ কিংবা রসায়নে , পাব আমাদের সৌরজগতে , আমাদের গ্যালাক্সিতে ; খুঁজে পাব অ্যাপল ,মার্সিডিজ এর মত বিখ্যাত কোম্পানীর লোগোতে । এই সংখ্যাই আমাদের বলে দিবে কেন পিরামিড কিংবা তাজমহল এত মনোমুগ্ধকর ? কেন ভিঞ্চির মোনালিসা
জগতখ্যাত ? কেন আমাদের বান্ধবীর চেয়ে ক্যাটরিনা কাইফ বেশি সুন্দরী ? কে বেশি আকর্ষণীয়,
আঞ্জেলিনা জোলি নাকি অনন্ত জলিল ? কে বেশি
ঠাণ্ডা (Cool), টম ক্রুজ নাকি শাকিব খান ? এ সব
প্রশ্নেরই উত্তর মিলবে এই সংখ্যা থেকে।
হইতো  এটি  সৃষ্টিকর্তার সুন্দর এক কৌশল যা কিনা প্রকৃতির সৌন্দর্য সৃষ্টিতে ব্যবহার করেছেন এই সৌন্দর্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে মানুষ বিভিন্ন কৃত্রিম কিছু সৃষ্টিতে তে ব্যবহার করছেন সোনালী অনুপাত "

এই বলে স্যার মুখে আরেকটি পান দিলেন। স্যারের কথায় বেশ মজা আছে। যাকে বলা যায় খাঁটি মজা।

"- রহস্যময়তা কিংবা প্রায়োগিক দিক অথবা প্রকৃতির মাঝে খুঁজতে চাইলে সবচেয়ে বেশি এবং প্রকটভাবে ধরা পরবে গোল্ডেন রেশিও; এবং বার বার আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিবে তার শ্রেষ্ঠত্ব। একারনেই সর্বাধিক গবেষণা হয়েছে এই সংখ্যাটিকে নিয়ে।
যাকে নিয়ে এতো গবেষণা সেই Golden Ratio টা
 আসলে কি?  এটা আসলে আর কিছুই নয়, একটা গাণিতিক অনুপাত মাত্র যার মান 1.618033988……।
হ্যা ব্যাপারটা নির্মম হলেও সত্য যে এই Golden Ratio অন্য দুই বিখ্যাত সংখ্যার মতই দুষ্টু (অমূলদ সংখ্যা)।

Golden Ratio বা  সোনালী অনুপাতকে প্রকাশ করা হয় ল্যাটিন অক্ষর Φ (PHI/ ফাই ) দ্বারা। ১৫৯৭ সালে Michael Maestlin এই Φ (PHI/ ফাই ) আবিষ্কার করেন। এর মান ১.৬১৮০৩৩৯৮৯ (প্রায়)। এটি একটি অমূলদ সংখ্যা । ফিবোনাচ্চি রাশিমালার সাথে এর পিতা পুত্রের   সম্পর্ক রয়েছে।

-"শুভ,  তুমি তো ফিবোনাচ্চির ইতিহাস জানো, হুম?"

- "জ্বি স্যার, ফিবোনাচ্চি রাশিমালার আবিষ্কারক ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিখ্যাত গণিতবিদ Leonardo Da Pisa. উনার ডাকনাম ফিবোনাচ্চি। ১২০২ সালে Liber Abaci নামক পুস্তকটির মাধ্যমে তিনি পশ্চিম ইউরোপীয় গণিতকে “ফিবোনাচ্চি সিরিজের” সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। যদিও এই পরিচয় করিয়ে দেবার অনেক আগেই ভারতীয় গণিতে এই রকম একটা সিরিজের কথা বলা হয়েছিল। ফিবোনাচ্চি সিরিজ নিয়ে ফিবোনাচ্চি সাহেব বলেছিলেন- “প্রকৃতির মূল রহস্য রাশিমালাতে আছে”।

-"হুম, ভালো বলছ। মিস্টার ফিবোনাচ্চি ঠিকই বলছেন প্রকৃতির মূল রহস্য ফিবোনাচ্চি রাশিমালাতে আছে তার অকাট্য একটি   দলিল  সোনালী অনুপাত।  ফিবোনাচ্চি রাশিমালার সাথে সোনালী অনুপাতের পিতা-পুত্রের সম্পর্ক টা একটু বুঝায় বলি।
0, 1, 1, 2, 3, 5, 8, 13, 21, 34, 55……
এইটাই ফিবোনাচ্চি সিরিজ। কিভাবে আসলো এইটা??? এই সিরিজের যে কোন সংখ্যা তার পূর্ববর্তী দুটি সংখ্যার যোগফলের সমান। যেমনঃ 0+1=1, 1+1=2, 2+1=3,
3+2=5, 5+3 =8..........ইত্যাদি। গণিতের ভাষায় বলতে গেলে বলা যায়- f(0)=0, f(1)=1…… হলে f(n)= f(n-1)+f(n-2). ( ফিবোনাচ্চি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসুন " নান্টু স্যার & আরেকটু ফিবোনাচ্চি science-ahmedshuvo969.blogspot.com/2016/01/blog-post.html?m=1 ) ফিবনোচ্চি সিরিজের যেকোন পদকে আগের পদ দিয়ে ভাগ করলে সেই সংখ্যাটাই PHI । প্রথম কয়েকটা পদের জন্য হিসেব কিছুটা বিদঘুটে মনে হলেও ফিবনোচ্চি সিরিজ ধরে যত সামনে যাওয়া হবে তত ক্রমিক সংখ্যাদ্বয়ের অনুপাত PHI এর দিকে এগবে এবং ৩৯ তম পদ থেকে ক্রমিক সংখ্যাদ্বয়ের অনুপাত প্রায় ধ্রুব হয়ে যাবে।
যেমন
2/1=2,
3/2=1.5,
5/3=1.665,
 8/5=1.6,
 13/8=1.625,
21/13=1.615
.....................
এখানে  প্রথম দুটি ভাগফল বাদ দিলে বাকি ভাগফলগুলোর মান প্রায় সমান বা ধ্রুবক। Luca Pacioli’s এর বই De divina proportione এ
প্রথম গোল্ডেন রেশিও এর ব্যাপারে প্রকাশিত হয়।
এরপর Mathematician Euclid তার Elements (Greek:Στοιχεῖα) গ্রন্থে প্রথম PHI এর জ্যামেতিক ব্যখ্যা দেন।

অথবা উল্টো করে বললে এই অনুপাতকে আমরা 1 : 1.6180… = 0.6180… ও বলতে পারি । এই 0.6180… কেও কিন্তু গোল্ডেন রেশিও বলা হয় । এবং একে ছোট হাতের ফাই ( φ) দ্বারা প্রকাশ করা হয় । তার মানে সম্পর্কটা হচ্ছে এরকম : Φ=1/ φ
PHI কে কিন্তু আরো অনেকভাবে প্রকাশ করা যায় ;
দেখতো এটা পরিচিত মনে হয় কিনা :
Φ=1+1/(1+1/(1+…))
এই PHI ই হল একমাত্র সংখ্যা যা এই ধরনের অদ্ভুত আচরণ করে :

ধর, a এবং b দুইটি সংখ্যার মধ্যে সোনালী অনুপাত বজায় তাহলে লিখা যায়
(a+b)/a = a/b = Φ
or, ((a/b)+1)/(a/b) = a/b
যেহেতু a/b = Φ
সুতরাং,  (Φ+1)/ Φ = Φ
or, Φ+1 = Φ^2
or, Φ^ 2= Φ+ 1
ot, Φ^2 - Φ-1 = 0
উপোরোক্ত সমীকরণটি একটি দ্বিঘাত সমীকরণ যার
সমাধান হচ্ছে :
Φ = (1+ √5)/2 = 1.68033.....
 এখন বুঝলে কিভাবে সোনালী অনুপাত পাওয়া যায়?

আমি চুপচাপ মন দিয়ে স্যারের কথা শুনছিলাম
-"শুভ "
-" জ্বি স্যার"
-"গণিতের আবিজাবি দেখে কি বিরক্ত? "
-"না, স্যার তবে বাস্তব উদাহরণ ফেলে ভালো লাগবে, আরো মজা করে গিলতে পারব"

স্যার আমার দিকে একটু তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন।

-" লিওনার্দো দাদকে তো চিন?"
- "হ্যাঁ স্যার,"
_"লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি দাদা ভাইকে– Golden Ratio এর মাস্টার বলা হয় আর সে দাদা ভাই সোনালী অনুপাত কে   আখ্যায়িত করেছিলেন ‘The Divine Proportion’ বা ‘ স্বর্গীয় অনুপাত’ নামে । কারণ
তিনিই প্রথম মানবদেহে PHI এর উপস্থিতি লক্ষ করেন ;
বুঝতে পারেন এর মর্ম। তিনি মৃত মানুষের দেহের বহিঃস্থ ও ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে অনেক গবেষণা করতেন ; ময়নাতদন্ত যাকে বলে আর কি । আমরা ডাক্তারের চেম্বারে  কিংবা মেডিকেল কলেজে যেসব মানুষের অঙ্গের ছবি দেখি সেগুলো প্রথম দাদা ভাই ডিজাইন করেছিলেন। আর এত ভালো ডিজাইনের রহস্য হল  মানব দেহে PHI,  বুঝা যায়  দাদা ভাইয়ের মাথায় ভালো পুষ্টি ছিল।
স্যার কে থামিয়ে আমি প্রশ্ন না তুলে পারলাম না
-"মানব দেহে PHI ? সেটা আবার কি রকম স্যার?"
-" ভালো প্রশ্ন,   তুমি একটু সোজা হয়ে দাঁড়াও"
স্যারের কথা মত আমি সোজা হয়ে দাঁড়ালাম, স্যার আমার শরীলের মাপজোপ শুরু করে দিল। আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছিলাম না স্যার কি করছেন। প্রথমে আমার কাঁধ থেকে হাটু পর্যন্ত  এবং হাটু থেকে পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ডিসটেন্স নিয়ে খাতায় টুকে রাখললেন ৪৩ এবং ২৬.৭।
-"শুভ,  ৪৩ কে ২৬.৭ দিয়ে ভাগ দাও, কত হয়?"
- "  ১.৬১০ স্যার, স্যার এটি তো একটি সোনালী অনুপাত "
-" তোমাকে বাস্তব উদাহরণ দিলাম  হইতো এই জিনিসটিকে মাথায় রেখে  ফরাসিরা আইফেল টাওয়ার বানাইলেন
শুধু কাঁধ থেকে হাটু পর্যন্ত এবং হাটু থেকে পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত দূরত্বের অনুপাত PHI না,  ছেলে/মেয়ে সকল বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই , দেহের সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য : নাভির নিচ থেকে বাকি অংশের দৈর্ঘ্য = 1.6180…(PHI) ; আবার  ; মানুষের বাহু (বাইসেপ্স) এর সাথে সম্পূর্ণ হাত এর অনুপাতের মান হল 1.6180…(PHI); মানুষের আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে কনুই এর দৈর্ঘ্য এবং কবজি থেকে কনুই এর দৈর্ঘ্যের অনুপাত 1.6180…(PHI) ; মানুষের মুখমণ্ডলের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত 1.6180…(PHI) ; ঠোঁটের দৈর্ঘ্য ও নাকের প্রস্থের অনুপাত , চোখের ২ প্রান্তের দুরুত্ব ও চুল থেকে চোখের মনির দুরুত্ব ও 1.6180…(PHI) ।সারা মুখমন্ডলের সবকিছুতে , শরীরের গিঁটে গিঁটে , মেরুদন্ডে, অভ্যন্তরের অঙ্গেপ্রত্যঙ্গে সবখানে এই PHI খুঁজে পাওয়া যাবে । গোটা মানবদেহে প্রায় ৩ শতাধিক Golden Ratio (PHI) খুঁজে পাওয়া যায় ; মুখমণ্ডলেই পাওয়া যায় ৩০ টিরও বেশি । , মানুষের চেহারায়  Golden Rectangle এবং Golden Spiral পুরো খাপে খাপে বসে যায় । এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই ।
এদিকে আমাদের লিওনার্দো ভিঞ্চি সাহেব কিন্তু
শুধু মানুষের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়েই বসে
ছিলেন না । তিনি নির্দ্বিধায় (অথবা অবচেতন মনে )
সমানে প্রয়োগ করতে লাগলেন এই Golden Ratio (PHI) । কোথায় ? তার শিল্পকর্মে । তার বেশির ভাগ
শিল্পকর্মতেই PHI খুঁজে পাওয়া যায় ; The last Supper , Merry Magdalin , Monalisa সবগুলোই PHI এর কারিশমা । এবং এজন্যই এগুলো জগতখ্যাত , মানুষের মন জয় করে নিয়েছে । তিনি সবচাইতে বেশি খ্যাত হয়েছেন Monalisa শিল্পকলাটির জন্য; (তারপরও একটা জিনিস কিন্তু Monalisa ’র নাই !!! ভ্রু নাই … এছাড়াও Monalisa ‘র ছবির আরো অনেক রহস্যময় দিক আছে ) ।
শুধু মানবদেহই নয় , গোটা প্রানীকুলে-উদ্ভিদকুলে সব কিছুতেই মাত্রাগত ভাবে PHI বিদ্যমান । সকল উদ্ভিদ– প্রানীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গও PHI অনুপাতে বিভক্ত ।
এমনকি যে প্রানীর কোন হাত-পা-মাথা কিছুই নেই যেমন শামুক-ঝিনুক-সী-শেল এসবেও কোন-না-
কোনভাবে PHI রয়েছে !! তারপর ধরুন একটা মৌচাকে স্ত্রী মৌমাছি ও পুরুষ মৌমাছির সংখ্যার অনুপাত PHI । ফুলের ভেতর প্রতি স্তরের রেনুর সাথে পরের স্তরের রেনুর অনুপাত PHI । গাছের প্রতি স্তরে স্তরে পাতা বৃদ্ধির অনুপাত PHI । তারপর ধরুন মৌমাছি সহ আরো অনেক ধরণের মাছি ,কীট, ওয়াইল্ড ডগ ইত্যাদির চলাফেরার পথ কিংবা আক্রমনের পথ হয় Golden Spiral অনুযায়ী (মানে PHI )।
আমাদের DNA তেও আমরা যদি বৃহৎ খাঁজ(Major Groove) ও ক্ষুদ্র খাঁজের (Minor Groove ) অনুপাত নেই সেটাও হবে PHI । এমনকি  মুরগীর ডিমেও Golden Spiral খাপে খাপে বসে যায়!
পদার্থবিজ্ঞানের চৌম্বকক্ষেত্র কিংবা বিদ্যুৎক্ষেত্রে ,সরল ছন্দিত স্পন্দনে , তাপবিজ্ঞানে সবখানেই পাওয়া যায় PHI । কোয়ান্টাম মেকানিক্স থেকে আমরা যদি ইলেকট্রন কিংবা প্রোটনের g-factor ব্যখ্যা করতে চাই , সেখানেও PHI : g-factor of electron = -2sin(PHI)।
আমরা যদি পোলারাইজড হাইড্রোজেন বন্ড ও
সাধারন হাইড্রোজেন বন্ডের অনুপাত নেই সেটাও হবে
PHI।
 বর্তামান বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে বিখ্যাতরা এর অনেক ব্যবহার করেছেন এমনকি বর্তমানে মার্কেটিং এ এর ব্যবহার হচ্ছে । আড্রিয়ান বেজান এর মতে , মানুষের চোখ অন্য ইমেজের চেয়ে, যেসব ইমেজ Golden Ratio কে অনুসরণ করে তাকে খুব সহজে উপভোগ্য হিসেবে নিতে পারে। আর যেসব ইমেজকে চোখ সহজে নিতে পারে সেগুলোকেই আমরা বলি, আহা কি সৌন্দর্য! সে জন্যই বিখ্যাত অনেক শিল্পীরাই তাদের কাজে PHI প্রয়োগ করেছেন যেমন  মিসরের পিরামিডে , আগ্রার তাজমহলে ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারে , নটরডেমে, পারথেননে , ইউনাইটেড নেশন বিল্ডিং সহ আরও অজস্র স্থাপত্যে PHI ব্যবহৃত হয়েছে।PHI থাকার কারণেই এগুলো এত বেশি দৃষ্টিনন্দন ।
:
সঙ্গীতের নোটের ক্ষেত্রেওও PHI বিদ্যমান ।
ভায়োলিনসহ আরো অনেক বাদ্যযন্ত্র বানানো হয়েছে
PHI দিয়ে।  বিখ্যাত কোম্পানির লোগো যেমন Apple, Adidas, Honda, Toyota, Mercedes-Benz, CocaCola, Pepsi, National Geography ইত্যাদি আরো অনেক বড় বড় কোম্পানি PHI ব্যবহার করেছে।
হারিকেন ,ঘূর্ণিঝড় , ধোঁয়ার কুণ্ডলী সবসময়ই Golden
Spiral অনুসরন করে বৃদ্ধি পায়। এমনকি গ্যালাক্সি
গুলোও Golden Spiral অনুসরন করে বিস্তৃত হয় ।
আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর সূর্যের চারপাশে
আবর্তনকালও PHI এর সাথে সম্পর্কিত । তারা পৃথিবীর
আবর্তনকালের সাথে PHI এর সুচক আকারে পরিবর্তিত
হয় ।


পৃথিবীর আবর্তনকালের সাথে গ্রহগুলো PHI এর সুচক আকারে পরিবর্তিত হয়। কো-অরডিনেট পদ্ধতিতে পুর্ব দাগ্রিমাংশ +৩৯.৮২ এবং উত্তর অক্ষাংশ +২১.৪২ । যা দ্বারা প্রমানিত হয় পৃথিবীর গোল্ডেন রেশিও হচ্ছে পবিত্র কাবা । ৯০+৩৯.৮২ = ১১১.৪২ সুতরাং ১১১.৮২ / ১৮০= 0.৬১… এবং ১৮০+৩৯.৮২ = ২১৯.৮২ সুতরাং ২১৯.৮২/৩৬০ = ০.৬১…. তাই গোল্ডেন রেশিও পয়েন্ট Φএর মান অনুযায়ী মক্কা এবং ক্বাবাই হচ্ছে পৃথিবীর
গোল্ডেন রেশিও পয়েন্ট ।

এরকম আরো অসংখ্য PHI খুঁজে পাওয়া গিয়েছে
সৌরজগতে , মহাবিশ্বে , আমাদের পৃথিবীর আনাচে
কানাচে । মহাবিশ্বের চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও PHI
(Golden Ratio) বজায় রেখেছে তার শৃঙ্খলা । সবকিছুর ভেতরে এক অপার মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে । সবকিছুতেই একটু গভীর দৃষ্টি দিলেই PHI খুঁজে পাওয়া যাবে। এজন্যই একে বলা হয় The number of life , The divine proportion ( স্বর্গীয় অনুপাত ) । "

 স্যার একটানা বলেন গেলেন আর আমি মনোযোগী হয়ে আনন্দ গিলছি, মনে হচ্ছে অনেক সহজ একটি অনুপাত অথচ আমাদের চারপাশ তার থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।  আমি নান্টু স্যারের দিকে তাকিয়ে আছি উনি মিটমিট হাসি ফুটাচ্ছেন, পৃথিবী তে মানুষের বৈচিত্র্যময় ঢল দেখা যায় তবে স্যারের মত কাউকে আগে কখনো দেখিনি, স্যার কাউকে বুঝিয়ে সব চাইতে শান্তি পান, বিজ্ঞান প্রেমিকরা এরকমি হই।

বেশ কিছু সময় পর, আমি আনন্দে ২ ফুটের একটি লাফ দিতে দেরি করলাম না।
-"স্যার পেয়ে গেছি"
স্যার অবাক হয়ে প্রশ্ন তুলল
-"কি পেলে? "
-"I love you"
স্যার আরো অবাক হয়ে
-"কি??"
-" I love you এর মধ্যে স্যার ফিবোনাচ্চি আর সোনালী অনুপাত আছে।  যেমন I love you  বাক্যে  i  love একজন ব্যক্তির অংশ আর you আরেকজন ব্যক্তির অংশ। তাহলে ২য় জন ব্যক্তির you এর ফিবোনাচ্চি  ৩ আর পথম জনের i love এর ফিবোনাচ্চি ৫ তাহলে গোল্ডেন রেশিও ৫/৩"

হাহাহাহা আমরা দু-জনে হাসছি।জানিনা এই হাসির মধ্যে কোন অনুপাত আছে কিনা


___আহমেদ শুভ

শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৬

নান্টু স্যার & আরেকটু ফিবোনাক্কি
_________________________
স্যার ভালোই পান চিবাইতে পারেন। অনেক দিন পর স্যারের সাথে দেখা। সেমিস্টার ফাইনালের জন্য মেলা দিন স্যারের ক্লাসে আসতে পারেনি। বলা যায় উপস্থিত ছাত্রদের মাঝে আমি সব চাইতে পুরানো। শীতকালীন সময় স্যারকে বেশ ভালো দেখাচ্ছেন অনেকটি পুরানো খান্দানিওয়ালাদের মতন।  তার পরনে কাপড় ছিল পুরাতন  সুতির একটি  খান্দানি জেকেট আর সুতির কালচে পেন্ট । জেকেট টি থেকে কর্পূরের গন্ধ আসতেছে সম্ভবত  বেগ বা ড্রয়ার থেকে আজি বের করেছেন, হু তেলাপোকা।  বেঞ্চির পেছনে বসে  আমি নান্টু স্যারের পান খাওয়া দেখছিলাম।  ইদানীং   পান নিয়ে মনে হই  তিনি কিছু  একটা  ভাবছেন। একটি পান মুখে দিয়ে চিবাচ্ছেন আরেকটি পান খুলে ধরে কি যেন টের করতে চেষ্টা করছেন, মাঝে মাঝে মিট মিট হাসছেন।পৃথিবীর যত ধরণের ভালো কাজ প্লাস ইনফিনিট হতে   খারাপ কাজ মাইনাস ইনফিনিট আছে সব কিছুর  একটি সুন্দর ভার্চুয়াল স্ট্যাইল আছে। স্যারের পানের দিকে তাকানি টা কেমন কাজ আমি জানিনা তবে স্ট্যাইল টা দারুণ জোস। স্যার আমাকে হইতো এতক্ষণ খিয়াল করেনি,
কিছুক্ষণ পর..
- শুভ,  তুমি ফিবোনাক্কি রাশিমালা জানো?
- ' হ্যাঁ! জানি স্যার।  তবে এই রাশিমালা নিয়ে আমি তেমন উৎসাহী নই। আমার উৎসাহ অন্য জায়গায়!'
- কোথায়?
- 'আপনি নিজে যে রাশিমালা তৈরি করছেন, সেই রাশিমালায়...
- 'আমিতো কোন রাশিমালা তৈরি করি নি। আমি শুধু ফিবোনাক্কি কি দিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করছি। ফিবোনাক্কি হল একটি রহস্যময়  রাশি, নিশ্চিত এই রাশির পেছনে সৃষ্টিকর্তার হাত আছে, তুমি ফিবোনাক্কি কে গিলেছি শুধু কিন্তু  স্বাদ পাওনি আজ আমি ফিবোনাক্কির  স্বাদ  দিব তোমাকে ।

- হুম, স্যার।

স্যার ব্ল্যাক বোডের সামনে গিয়ে কি জেন ভাবছেন, তারপর  ফিবোনাক্কি শিরোনাম দিয়ে আরম্ভ করল।
‘ফিবোনাক্কি রাশিমালা’র জন্মদাতা ইতালির নাগরিক Leonardo Pisano (১১৭৫-১২৫০)। মৃত্যুর আগে
একবার Leonardo Pisano কে তাঁর তৈরি রাশিমালা নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি অনেকটি রহস্য করে বলেছিলেন, ‘প্রকৃতির মূল রহস্য এই রাশিমালাতে আছে।’অর্থাৎ এই রাশিমালা দিয়ে প্রকৃতির অনেক খানি বাখ্যা করা যায়।
এই বলে স্যার আরেকটি পান মুখে দিল, অল্প একটু  বিরতি রেখে আবার শুরু করল
কিন্তু কি সেই রহস্য?
সেটা জানার আগে এক ঝলক রাশিমালাটা দেখে নিই,
আমাদের প্রচলিত ডেসিমেল পদ্ধতির রাশিমালা হচ্ছে
০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯। এভাবে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। মৌলিক রাশিমালা হচ্ছে ১, ৩, ৫, ৭, ১১, ১৩, ১৭, ১৯ ইত্যাদি। আর ফিবোনাক্কি রাশিমালা হচ্ছে ০, ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১, ৩৪, ৫৫, ৮৯, ১৪৪, ২৩৩, ৩৭৭, ৬১০, ৯৮৭ ... ইত্যাদি।
লক্ষ কর, এখানে মুল ভিত্তি কিন্তু ০,১। এরপর প্রতি
দুইটি পুর্বপদ ও পরপদের যোগফল হিসাবে তৃতীয় পদ
লেখা হচ্ছে।
০+১ =১
১+১= ২
২+১= ৩
৩+২=৫
৫+৩=৮
৮+৫=১৩
১৩+৮=২১..
...... ...... ..... ....
এভাবে অদ্ভূত নিয়মে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে এই রাশিমালার মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য প্রত্যক্ষ করা যায়, যেমন : এ রাশিমালার যে কোন চারটি সংখ্যা নেওয়া হলে প্রথম ও চতুর্থ সংখ্যার যোগফলের সাথে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যার যোগফল বিয়োগ করা হলে ফলাফল অবশ্যই সবসময় ঐ চারটি সংখ্যার প্রথমটি হবে। ব্যপার টুকু একটু বুঝাই বলি  ধরা যাক চারটি ফিবোনাক্কি রাশি ২, ৩ , ৫, ৮। প্রথম ও চতুর্থ সংখ্যার যোগফল (২ + ৮) ১০, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যার যোগফল (৩ + ৫) ৮ বিয়োগ করলে বিয়োগফল হচ্ছে ২, যা কিনা আমাদের ধরে নেওয়া চারটি সংখ্যার প্রথম সংখ্যা। আমরা সাধারণত ডেসিমেল পদ্ধতিতে হিসেব করে এতো অভ্যস্ত যে, কোন কিছুর গণনায় ডেসিমেল সংখ্যা (০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯) দ্বারাই কোন কিছুর হিসেব করে থাকি; যেমন ঘড়ি দ্বারা সময় নির্ণয়, টাকা-পয়সার লেনদেন, বাজার-সদাই ইত্যাদি। কিন্তু বিস্ময়করভাবে প্রকৃতির নানা স্তরে ফিবোনাক্কি রাশিমালার ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে,
যদিও তোমাদের মনে হচ্ছে এই রাশিটি রসহীন কিন্ত
 এই রসহীন গানিতিক ধারাকে আমি কেন এত মজার বলছি জানতে চাও?

সবার এক কথা হ্যাঁ।

তোমরা  আকাশে সন্ধ্যা বেলা মাঝে মাঝে ঝাক বেধে
বক উড়ে যেতে নিশ্চয়  দেখছ। খুব সুন্দর দেখায় একসাথে অনেকগুলো বককে একত্রে উড়তে। আমিও সেই সৌন্দর্যের একজন ভালো দর্শক কিন্তু আমি শুধু নেহায়েত  বক দেখার দর্শক না আমি বকের ঝাকে গণিতকে খোঁজার জন্যই  দর্শক । কখনো কি  সেই  বক গুনে দেখেছ?? হয়তোবা দেখা হয়নি। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখেছ কিন্তু অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য দেখনি। মজার বিষয় হল বকের ঝাক ফিবোনাক্কি রাশিমাল মেনে চলে। হয়তো ভাবছ কিভাবে?? আজ থেকে আকাশের দিকে খুব বেশী মনোযোগ দেবে পাখি তথা বক গোনা শুরু করে দিবে। দেখবে বক যখন ঝাক বেধে যাবে কখনো সেই সারিতে ৮ টি,১৩ টি, ২১ টি অর্থাৎ ফিবোনাক্কি সংখ্যা পাওয়া যাবে। তুমি কখনোই দেখবে না যে সারিতে ১০ টি কিংবা ২২ টি বক আছে!!! মজার না???

শুধু বকের ঝাকে না সূর্যমুখী ফুলের পাপড়ি বিন্যাসে, ক্যকটাস গাছের পুরুত্বে, পাইন গাছের মোচায় ফিবোনাক্কি রাশিমালার সংখ্যা পাওয়া যায়। শামুকের যে স্পাইরাল দেখা যায় সেখানেও ফিবোনাক্কির রাশিমালার উপস্থিতি রয়েছে। শীতের সময় আমাদের দেশে সুদূর সাইবেরিয়া হতে ‘অতিথি পাখি’ ঝাকে ঝাকে আসে। পাখিদের নিজেদের অঞ্চলে উষ্ণ আবহাওয়া দেখা দিলে স্থান পরিবর্তন করে তারা অন্য শৈত্য এলাকায় গমন করে। এই অতিথি পাখির ঝাক গণনা করে দেখা গেছে তাদের একেকটি ঝাকে ২১টি পাখি থাকে, ২২ বা ২৩টি পাখি থাকে না। মজার ব্যাপার ফিবোনাক্কি সিরিজে ২১
সংখ্যাটি রয়েছে, ২২ বা ২৩ সংখ্যা নেই। মৌমাছিদের
জীবনযাত্রায়ও রয়েছে ফিবোনাক্কি রাশিমালার
উপস্থিতি। মৌমাছিরা সাধারণত কলোনি করে থাকে।
প্রতিটি কলোনিতে একটি পুরুষ মৌমাছির পিতা-মাতা
১ জন, দাদা-দাদী ২ জন, প্রপিতা-মাতা ৩ জন, প্রপিতা- মাতার পিতা-মাতা ৫ জন এবং এদের পিতা-মাতা ৮ জন। এভাবে ক্রমেই মৌমাছির বংশতালিকায় ফিবোনাক্কি রাশিমালার সংখ্যার খোঁজ পাওয়া যায়।

এটাতো ফিবোনাক্কি রাশিমালার মজা, মানুষকে অবাক করে দেবে নতুন বিস্ময়ে!! আমারা সংখ্যাকে আজ রসহীন তৈরী করে ফেলেছি। কিন্ত যারা প্রকৃত গনিত প্রেমী, তাদের কাছে সংখ্যা অনেক মজার ও আদরেরে জিনিস। মহান পিথাগোরাস সবকিছু চিন্তা করতেন সংখ্যা নিয়ে। তিনি বলতেন, স্বর্গ, মত্য, আত্মা সবকিছুই সংখ্যা মেনে চলে। কি অদ্ভুত!!
তিনি বলতেন, ১ হল সুচনাকারী ও পবিত্র সংখ্যা। যেহেতু
ঈশ্বর সবচেয়ে পবিত্র তাই তিনি বলতেন ১ হল ঈশ্বরের
সংখ্যা। ২ হল প্রথম নারী সংখ্যা, ৩ হল প্রথম পুরুষ
সংখ্যা।৪ হল নিরপেক্ষ সংখ্যা। ২+৩=৫, অর্থাৎ ৫ হল
বিবাহ সংখ্যা। তিনি সবকিছুকে সংখ্যার মধ্যদিয়ে
তুলনা করতেন।অন্য কোন  একদিন আলোচনা করবো পিথাগোরাসের সংখ্যা জগত নিয়ে।
মুল কথায় আসি,  আরেকবার  ববলেছি‘ফিবোনাক্কি রাশিমালা’র জন্মদাতা ইতালির নাগরিক লিউনার্দ ফিবোনাক্কি (১১৭৫-১২৫০)। মৃত্যুর আগে একবার
তাকে তার তৈরি রাশিমালা নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে
তিনি রহস্য করে বলেছিলেন, “প্রকৃতির মূল রহস্য এই রাশিমালাতে আছে।” তিনি এই সিরিজের জনক। তার নামানুসারে এটাকে ফিবোনাক্কির সংখ্যা বলা হয়। তিনি ফিবোনাক্কি প্রথম লক্ষ করলেন খরগোসের
বংশবিস্তার প্রক্রিয়া। তারপর তিনি খুজে পেলেন একটা প্যাটার্ন, যেখানে তিনি লক্ষ করলেন প্রায় সর্বত্রই এই সংখ্যা বিরাজ করছে। জনপ্রিয়তা লাভ করলো এই সিরিজ। ফিবোনাক্কি রাশিমালা এতটাই মজার যে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। মৃত্যুর আগে ফিবোনাক্কি বললেন পৃথিবীর মুল রহস্যে আছে এই রাশিমালা। হয়তো একদিন প্রমান হবে যে ফিবোনাক্কির কথাটা সত্যি হবে। প্রতিনিয়ত গনিত প্রেমীরা, বিজ্ঞানের ভক্তরা, গবেষকরা পৃথিবীর বুকে খুজে চলেছে ফিবোনাক্কি রাশিমালার প্যাটার্ন।।

সবাই স্যারের দিকে খুব অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। স্যার নিশ্চয় সেটি খেয়াল করলেন। তারপর সবার উদ্দেশ্য বলা শুরু করল
-হুঁ, তোমারা যে আমার চেহেরার দিকে তাকিয়ে আছ সেটিও  ফিবোনাক্কি শুধু আমার না তোমাদের সবার চেহেরায়, শরীলে  ফিবোনাক্কি আছে  যেটাকে বলা হই গোল্ডেন রেশিও


- শুভ তুমি কি জানো কিরকম চেহারা সুন্দর হয়?
- হ্যাঁ স্যার  পছন্দ যার যার তার তার,
- কিন্তু কি এমন কারণ যে "অমুক" মডেলের অনেকগুলা কমন ফ্যান থাকে!!! :?
আমি চুপচাপ
-বিজ্ঞানীদের মতে, সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে চোখ, মুখ ও
কানের মাঝামাঝি অংশের ডায়মেনশন এর মধ্যে।
অতঃপর তারা মাপজোক করে বললেন কারণ সোনালী অনুপাত!
সোনালী অনুপাত(Golden Ratio) কি জিনিস?
..........

"নান্টু  স্যারে ও গোল্ডেন রেশিও "

সবাইকে পড়ার আমন্ত্রণ রইল

যারা   প্রোগ্রামিং দিয়ে ফিবোনাক্কি বের করতে চান তারা ভিসিট করিন
solveproblem-ahmedshuvo969.blogspot.com/2016/01/blog-post_45.html?m=1

____আহমেদ শুভ 969